• Breaking News

    সফরের দোআ, কোথাও যাওয়ার আগের দোআ, বাড়ি থেকে বের হলে পঠিত দোয়া,

    ঘর হ’তে বের হওয়াকালীন দো‘আ :

    بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ-
    উচ্চারণ : বিসমিল্লা-হি তাওয়াক্কাল্তু ‘আলাল্লা-হি ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ’ ।
    অনুবাদ : ‘আল্লাহর নামে, (বের হচ্ছি), তাঁর উপরে ভরসা করছি। নেই কোন ক্ষমতা নেই কোন শক্তি আল্লাহ ব্যতীত’।[56]
    (খ) বিদায় দানকারীর দো‘আ : সফরের উদ্দেশ্যে কাউকে বিদায় দেবার সময় পরস্পরের উদ্দেশ্যে নিম্নের দো‘আটি পাঠ করবেন। একা হ’লে পরস্পরের (ডান) হাত ধরে দো‘আটি পড়বেন। বহুবচনে ‘কুম’ এবং একবচনে ‘কা’ উভয় লিঙ্গে বলা যাবে। সম্মানিত ব্যক্তিকে ‘কুম’ বলতে হয়।
    أَسْتَوْدِعُ اللهَ دِيْنَكُمْ وَأَمَانَتَكُمْ وَخَوَاتِيْمَ أَعْمَالِكُمْ-
    (১) উচ্চারণ : আসতাওদি‘উল্লা-হা দ্বীনাকুম ওয়া আমা-নাতাকুম ওয়া খাওয়া-তীমা আ‘মা-লিকুম’ ।
    অনুবাদ : আমি (আপনার বা আপনাদের) দ্বীন, ও আমানত সমূহ এবং শেষ আমল সমূহকে আল্লাহর হেফাযতে ন্যস্ত করলাম।[57] এখানে ‘আমানত সমূহ’ বলতে তার পরিবারের দায়িত্ব ও সফরকালীন দায়-দায়িত্ব সমূহকে বুঝানো হয়েছে। ‘শেষ আমল সমূহ’ বলতে حسن الخاتمة অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্বে তার শেষ নেক আমল সমূহকে বুঝানো হয়েছে (মিরক্বাত)।
    বিদায় দানকারীগণ উপরের দো‘আটির সাথে নিম্নের দো‘আটি যোগ করতে পারেন,
    زَوَّدَكَ اللهُ التَّقْوَى وَغَفَرَ ذَنْبَكَ وَيَسَّرَ لَكَ الْخَيْرَ حَيْثُ مَا كُنْتَ-
    (২) উচ্চারণ: যাউয়াদাকাল্লা-হুত্ তাক্বওয়া ওয়া গাফারা যাম্বাকা ওয়া ইয়াস্সারা লাকাল খায়রা হায়ছু মা কুন্তা’।
    অনুবাদ : আল্লাহ আপনাকে তাক্বওয়ার পুঁজি দান করুন! আপনার গোনাহ মাফ করুন এবং আপনি যেখানেই থাকুন আপনার জন্য কল্যাণকে সহজ করে দিন’। [58]
    উল্লেখ্য যে, ফী আমা-নিল্লা-হ বলে বিদায় দেওয়ার প্রচলিত প্রথার কোন ভিত্তি নেই। বিদায় দানকালে তাঁর সাথে কিছুদূর সাথে হেঁটে যাওয়া মুস্তাহাব। [59] এ সময় পরস্পরে দো‘আ চেয়ে বর্ণিত নিম্নের বহুল প্রচলিত হাদীছটি ‘যঈফ’।- أَشْرِكْنَا يَا أُخَيُّ فِي دُعَائِكَ وَلاَ تَنْسَنَا فِي دُعَائِكَ (হে আমার ভাই! আপনার দো‘আয় আমাকে শরীক রাখবেন এবং আপনার দো‘আয় আমাকে ভুলবেন না)। [60]
    (গ) কেউ দো‘আ চাইলে তার জন্য দো‘আ : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর খাদেম আনাস-এর জন্য তার মা উম্মে সুলায়েম দো‘আ চাইলে তিনি তার জন্য দো‘আ করেন, اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ، وَبَارِكْ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتَهُ আল্লা-হুম্মা আকছির মা-লাহু ওয়া ওয়ালাদাহু, ওয়া বা-রিক লাহু ফীমা আ‘ত্বায়তাহু’ (হে আল্লাহ! তুমি তার মাল ও সন্তানাদি বাড়িয়ে দাও এবং তাকে তুমি যা কিছু দিয়েছ, তাতে বরকত দাও)। আনাস (রাঃ) বলেন, এতে আমার সম্পদে ও সন্তানাদিতে খুবই প্রবৃদ্ধি ঘটেছিল। [61]
    উল্লেখ্য যে, উক্ত দো‘আ ব্যক্তি বুঝে পড়া যাবে, সকলের ক্ষেত্রে নয়। কেননা রোগী ও বিপদগ্রস্তের জন্য পৃথক দো‘আ রয়েছে। তবে বর্ণিত দো‘আর শেষ অংশটি اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتَهُ আল্লা-হুম্মা বা-রিক লাহু ফীমা আ‘ত্বায়তাহু’ অধিকাংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অথবা বলবে, بَارَكَ اللهُ لَكَ বা-রাকাল্লা-হু লাকা অথবা বহুবচনে ‘লাকুম’ (আল্লাহ আপনার মধ্যে প্রবৃদ্ধি দান করুন)। অথবা بَارَكَ اللهُ فِىْ أَهْلِكَ وَمَالِكَবা-রাকাল্লা-হু ফী আহলিকা ওয়া মা-লিকা’ অথবা বহুবচনে ‘কুম’ (আল্লাহ আপনার পরিবারে ও সম্পদে প্রবৃদ্ধি দান করুন)। [62]
    (ঘ) অতঃপর বিসমিল্লাহ বলে (ডান) পা পরিবহনের উপর রাখবে এবং আরোহনের সময় নিম্নস্বরে ‘আল্লাহু আকবার’ বলতে থাকবে। [63] অতঃপর সীটে বসে আলহামদুলিল্লাহ বলবে।[64] পরিবহন চলা শুরু করলে নিম্নোক্ত দো‘আটি পাঠ করবে।-
    اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، سُبْحَانَ الَّذِيْ سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِيْنَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ، اَللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِيْ سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى، اَللَّهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا وَاطْوِ لَنَا بُعْدَهُ، اَللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيْفَةُ فِي الْأَهْلِ وَالْمَالِ، اَللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمَنْظَرِ وَسُوْءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْمَالِ وَ الْأَهْلِ-
    উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার (৩ বার)। সুবহা-নাল্লাযী সাখখারা লানা হা-যা ওয়ামা কুন্না লাহু মুক্বরিনীনা, ওয়া ইন্না ইলা রব্বিনা লামুনক্বালিবূন। আল্লা-হুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফী সাফারিনা হা-যাল বির্রা ওয়াত তাক্বওয়া ওয়া মিনাল ‘আমালে মা তারযা; আল্লা-হুম্মা হাওভিন ‘আলাইনা সাফারানা হা-যা ওয়াত্বভে লানা বু‘দাহূ, আল্লা-হুম্মা আনতাছ ছা-হিবু ফিস সাফারি ওয়াল খালীফাতু ফিল আহ্লি ওয়াল মা-লি। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন ওয়া‘ছা-ইস সাফারি, ওয়া কাআ-বাতিল মানযারি, ওয়া সূইল মুনক্বালাবি ফিল মা-লি ওয়াল আহ্লি ।
    অর্থ: ‘আল্লাহ সবার চেয়ে বড় (তিনবার)। মহা পবিত্র সেই সত্তা যিনি এই বাহনকে আমাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছেন। অথচ আমরা একে অনুগত করার ক্ষমতা রাখি না। আর আমরা সবাই আমাদের প্রভুর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী’।[65] হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকটে আমাদের এই সফরে কল্যাণ ও তাক্বওয়া এবং এমন কাজ প্রার্থনা করি, যা আপনি পসন্দ করেন। হে আল্লাহ! আমাদের উপরে এই সফরকে সহজ করে দিন এবং এর দূরত্ব কমিয়ে দিন। হে আল্লাহ! আপনি এই সফরে আমাদের একমাত্র সাথী এবং পরিবারে ও মাল-সম্পদে আপনি আমাদের একমাত্র প্রতিনিধি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকটে পানাহ চাই সফরের কষ্ট, খারাব দৃশ্য এবং মাল-সম্পদ ও পরিবারের নিকটে মন্দ প্রত্যাবর্তন হ’তে।[66]
    (ঙ) নতুন গন্তব্য স্থলে পৌঁছে কিংবা কোন ক্ষতিকর বস্ত্ত থেকে বাঁচার জন্য পড়বে- أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ‘আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তাম্মা-তি মিন শার্রি মা খালাক্ব’ (আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমা সমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির যাবতীয় অনিষ্টকারিতা হ’তে পানাহ চাচ্ছি)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘এই দো‘আ পাঠ করলে, ঐ স্থান হ’তে প্রস্থান করা পর্যন্ত তাকে কোন কিছুই ক্ষতি করবে না’।[67] তিনি বলেন, ‘যদি এটা সন্ধ্যাবেলা পড়া হয়, তাহ’লে ঐ রাতে তাকে সাপ-বিচ্ছু দংশন করবে না’। [68]
    (চ) সফর থেকে প্রত্যাবর্তনের পর দো‘আ :
    اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لآ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، آيِبُوْنَ تَائِبُوْنَ عَابِدُوْنَ سَاجِدُوْنَ لِرَبِّنَا حَامِدُوْنَ...-
    উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার (৩ বার)। লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। আ-য়িবূনা তা-য়িবূনা ‘আ-বিদূনা সা-জিদূনা লিরবিবনা হা-মিদূনা ।
    অর্থ : ‘আল্লাহ সবার চেয়ে বড় (তিনবার), আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা কেবল তাঁর জন্যই। তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান। আমরা প্রত্যাবর্তন করলাম তওবাকারী, ইবাদতকারী, সিজদাকারী এবং আমাদের প্রভুর প্রশংসাকারী রূপে...’।[69] অতঃপর পরিবহন থেকে নামার সময় বলবে ‘সুবহানাল্লাহ’ । [70]
    রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সফর থেকে ফিরে সাধারণত: প্রথমে মসজিদে দু’রাক‘আত নফল ছালাত আদায় করতেন।[71]
    (ছ) গৃহে প্রবেশকালে দো‘আ :
    প্রথমে ‘বিসমিল্লাহ’ বলবে।[72] অতঃপর গৃহবাসীর উদ্দেশ্যে সালাম দিবে (নূর ২৪/৬১)।
    (জ) কারো গৃহে প্রবেশকালে অনুমতি প্রার্থনা করবে এবং দরজার বাইরে থেকে অনধিক তিনবার সরবে ‘সালাম’ দিবে। অনুমতি না পেলে ফিরে যাবে। [73] এই সময় নিজের নাম বলা উত্তম।[74] সালাম দেওয়ার পরে অনুমতি গ্রহণ করতে পারবে এবং গলায় শব্দ করবে।[75]
    [56] . আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/২৪৪৩, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৭। [57] . তিরমিযী, আবুদাঊদ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২৪৩৫। [58] . তিরমিযী হা/৩৪৪৪; মিশকাত হা/২৪৩৭। [59] . আহমাদ হা/২২১০৫; ঐ, মিশকাত হা/৫২২৭ ‘হৃদয় গলানো’ অধ্যায়-২৬, পরিচ্ছেদ-৩। [60] . আবুদাঊদ হা/২৪৯৮; তিরমিযী, মিশকাত হা/২২৪৮ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯। [61] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৬১৯৯, ‘মর্যাদা সমূহ’ অধ্যায়-৩০, ‘সমষ্টিগত মর্যাদা সমূহ’ অনুচ্ছেদ-১২। [62] . ইবনু মাজাহ হা/১৯০৬-০৭; নাসাঈ, মিশকাত হা/২৯২৬। [63] . বুখারী, মিশকাত হা/২৪৫৩ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৭। [64] . আহমাদ, তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/২৪৩৪ ‘দো‘আসমূহ’ অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৭। [65] . যুখরুফ ৪৩/১৩-১৪। [66] . মুসলিম, মিশকাত হা/২৪২০, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৭। [67] . মুসলিম, মিশকাত হা/২৪২২। [68] . মুসলিম, মিশকাত হা/২৪২৩; তিরমিযী হা/৩৪৩৭; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৪২৭। [69] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/২৪২৫, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৭। [70] . বুখারী, মিশকাত হা/২৪৫৩ ‘দো‘আসমূহ’ অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৭। [71] . বুখারী হা/৪৪৩, ‘ছালাত’ অধ্যায়-৮, অনুচ্ছেদ-৫৯; ঐ, হা/৪৬৭৭ ‘তাফসীর’ অধ্যায়-৬৫, অনুচ্ছেদ-১৮। [72] . মুসলিম, মিশকাত হা/৪১৬১, ‘খাদ্য সমূহ’ অধ্যায়-২১, পরিচ্ছেদ-১। [73] . নূর ২৪/২৭-২৮; মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৪৬৬৭, ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়-২৫, অনুচ্ছেদ-২। [74] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৪৬৬৯। [75] . নূর ২৪/২৭; মুসলিম, নাসাঈ, মিশকাত হা/৪৬৬৮, ৪৬৭৫; আলবানী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/৮১৭-১৮।
     সফরের দোআ,
    সফরের দোআ

    No comments